স্বামী- স্ত্রীরর অধিকার।, পর্ব-৩ - Iqbal Hussein Baltu

 Iqbal Hussein Baltu

ধর্ম দিলো পূর্ণতা, পশু হলো স্বাধীন চেতা।

স্বামী- স্ত্রীরর অধিকার।, পর্ব-৩

Share This
ইসলামে স্বামী- স্ত্রীর অধিকার।

   কোথাও হিন্দুদের চিন্তাধারা ও দৃষ্টিভঙ্গী অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এর প্রতিক্রিয়া হচ্ছে এই যে, স্ত্রীকে দাসী ও স্বামীকে প্রভু তথা দেবতা জ্ঞান করা হয়। আকীদা- বিশ্বাসের দিক থেকে না হলেও কার্যক্ষেত্রের বিয়ের বন্ধন কখনো ছিন্ন করা চলে না। তালাক ও খোলার প্রথা এতোটা লজ্জা ও আপমানের ব্যাপার হয়ে পড়েছে যে, সম্মান ও সম্ভ্রমের হানী হয়, যদিও পর্দার আন্তরালে তাকাল ও খোলার চেয়েও নিকৃষ্টতর অনেক কিছুই ঘটে থাকে।  তালাক প্রতিরোধের জন্য মহোরের পরিমাণ এতো অধিক করা হয় যে, যেন স্বামী কখনো তালা দেয়ার সাহসও করতে না পারে এবং অনৈক্যের সময় স্ত্রীকে বুঝিরে রাখতে বাধ্য হয়।

স্বামী পূজা স্ত্রীদের গৌরব এবং নৈতিক কর্তব্যের মধ্য শামিল হয়ে পড়েছে। কঠিন থেকে কঠিনতর পরিস্থিতিতে সে কেবল সামাজিক নিন্দ ও তিরস্কারের ভয়ে তালাক অথবা খোলার নাম মুখেও আনতে পারেনা। এমন কি স্বামী যদি মরে যায় তবুও হিন্দ নারীদের মত স্বামীর নাম জপ করে বসে থাকাই তার নৈতিক কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ বিধবার দ্বিতীয়বার বিয়ে হওয়া টা তার জন্য নয় বরং তার গোটা বংশের জন্য অপমানের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

২/-   নারিদের উপর পুরুষের যে রুপ অধীকার               রয়েছে  তদরূপ তাদের ওপরেও নারীদের                     ন্যায়সংগ্যত অধীকার রয়েছে।( বাকারা- ২২৮)

৩/-  অবশ্য পুরুষদের জন্য তাদের ওপর একটি             বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। ( বাকারা-২২৮) 

৪/- পুরুষরা হচ্ছে নারীদের পরিচালক। ( নিসা:-৩৪ )

    এই নানা বিধকারণে পুঞ্জিভূত হয়ে মুসলমাদের পরিবার জীবনকে ততটা বিপদগামি করে ফেলেছে- কোন এক যুগে তা যতটা উত্তম ছিলো। বিদেশি কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রভাবে তাদের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে তার জট খুলতে বর্তমান আইন ও আইন প্রয়োগকারী যন্ত্র সম্পূর্ণরূপে অপারগ  হয়ে পড়েছে। এ অপারগতা এসব জটিলতাকে আরোও জটিল করে তুলেছে। অজ্ঞাতার কারণে মুসলমানদের একটি দল এই ভ্রান্ত ধারণার শিকার হয়ে পড়েছে যে, ইসলামী আইনের ত্রুটির কারণই এসব বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

    এই জন্য একটি নতুন আইন- বিধান প্রণয়ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অথচ বাস্তব ক্ষেত্রে ইসলামের এমন একটি পরিপূর্ণ দাম্পত্য  বিধান মওজুদ রয়েছে সেখানে স্বামী- স্ত্রীর জন্য ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে তাদের অধিকার সমূহ পরিষ্কার ভাবে নির্ধারণ কার হয়েছে। এ অদীকার সংরক্ষণের জন্য এবং সীমা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ( চাই তা স্ত্রীর পক্ষে থেকে ঘটুক বা স্বামীর পক্ষে থেকে ঘটুক ) তার প্রতিকারের জন্য অভিযোগ পেশ করার ব্যবস্তাও করা হয়েছে। সেখানে কোন সমস্যা বাকি রাখা হয়নি যার সমাধান ন্যায় ইনসাফের ভিত্তিতে করা হয়নি।

    অতএব মুসলমানদের জন্য নতুন কোন বিধান আদৌ প্রয়োজন নেই। যে জিনিষ টির প্রকৃত প্রয়োজন রয়েছে তা হচ্ছে ইসলামের দাম্পত্য বিধানকে  তার স্বরূপ পেশ করতে হবে এবং তাকে সঠিক ভাবে কার্যকর করার চেষ্টা করতে হবে। অবশ্য এটা খুব সহজ সাধ্য কাজ নয়। সর্ব প্রথম দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে আলেম সমাজের। তারা অবিচল তাকলীদের পথ পরিহার করে বর্তমান যুগের প্রয়োজন ও চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে ইসলামের দাম্পত্য বিধানকে এমন ভাবে ঢেলে সাজাবেন যেন মুসলমানদের দাম্পত্য জীবনের সমস্যাসমূহের বর্তমান জটিলতার পূর্ণাঙ্গ সমাধান করা যায়।

    অতপর মুসলমান সর্বসাধারন কে এ সম্পর্কে প্রশিক্ষন দিতে হবে এর ফলে তারা নিজেদের সমাজ ব্যবস্থাকে সমস্ত জাহিলীর রসম- রেওয়াজা ও দৃষ্টি ভঙ্গী থেকে পবিত্র করতে পারবে, যা তারা ইসলাম বিরুদ্ধী সমাজ ব্যবস্তা থেকে গ্রহণ করে ছিলো এবং তারা ইসলামী আইনের মূলনীতি ও ভাব ধারা অনুধাবন করে তদানুযায়ী নিজেদের যাবতীয় কাজ অঞ্জম দেবে। এছাড়া এমন একটি সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত বিচার বিভাগের প্রয়োজন যা স্বয়ং এ আইনের ওপর ঈমান রেখে এবং যার বিচারকদের জ্ঞান ও নৈতিকতার দিক থেকে এরূপ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তার এ আইন কে দুনিয়ার অন্যান্য আইনের প্রেরণায় নয় বরং ইসলামের নিজস্ব প্রেরণা ভাব ধারায় কার্যকর করবে।

    এই কিতাবটি সেই প্রয়োজন সামনে রেখে লেখা হয়েছে। সামনের পৃষ্ঠা গুলোতে আমি ইসলামের দাম্পত্য আইনের একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা পেশ করতে চাই। তবে আমি এ আইনের উদ্দেশ, মূলনীতি ও ধারাসমূহ যথাযথ স্থানে বর্ণনা করা হবে। প্রয়োজনবোধে আমি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের জন্য নবী (স) ও সাহাবায়ে কিরামের সিন্ধান্তের উদাহরণ এবং পরবর্তী যুগের ইমামদের ইজতীহাদি রাওয়াও নকল করবো। এতে খুঁটিনাটি মাসায়ালাসমূহ বের ( স্তিম্বাত) করা সহজ হবে। পরিশেষে এমন কিছু প্রস্থাব পেশ করা হবে যাতে ইসলামী শরীয়তেরর মূলনীতি অনুযায়ী মুসলমানদের দাম্পত্য জীবনে যাবতীয় বিষয়ের জটিলতা অনেকাংশের দূরীভূত হতে পারে।

     যদিও ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও শরিয়ত বিচার ব্যবস্থা প্রবর্তনেই হচ্ছে এসব জটিলতা আসল ও সঠিক চিকিৎসক, কিন্তু তবুও আমি এখানে এমন কতোগুলো বিষয় বলে দিতে যাচ্ছি যে গুলো দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতেও মুসলমানদের দাম্পত্য জীবনের সাথে সম্পর্কিত বিষয়াদি দোষত্রুটি গুলো তুলনা মূলক ভাবে শরিয়তের সঠিক নিয়মে দূর করা যেতে পারে। তাহলে যারা এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন তারা ভ্রান্ত পথে অগ্রসর হওয়ার পরিবর্তে এমন পথ গ্রহণ করেন, যার কিছুটা অনন্ত শরিয়ত মোতাবিক হবেন।

                                     -সাইয়েদ মওদূদী

ক্রমাগত..................

No comments:

Post a Comment

Pages